ক্রিস্টোফার নোলাঁ-র নতুন ছবি ‘ওডিসি’-র ট্রেলার ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় যে বিপুল আলোড়ন তৈরি হয়েছে, তা কেবল বিপণন কৌশলের সাফল্য নয়; বরং এটি বর্তমানের একঘেয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ভর ব্লকবাস্টারগুলোর ভিড়ে দর্শকদের অকৃত্রিম এবং মহাকাব্যিক কাহিনীর প্রতি গভীর আকাঙ্ক্ষাকেই ফুটিয়ে তোলে।
‘দ্য হলিউড রিপোর্টার’-এর মতো প্রথম সারির বিনোদন মাধ্যমগুলোর তথ্য অনুযায়ী, এই ট্রেলারে ওডিসিয়াস চরিত্রে ম্যাট ড্যামনের দুর্দান্ত উপস্থিতি এবং নোলাঁ-র সেই পরিচিত প্র্যাকটিক্যাল ফিল্মমেকিং বা বাস্তবসম্মত চিত্রায়নের ছাপ স্পষ্ট। স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মগুলোর দীর্ঘ দাপটের পর প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইউনিভার্সাল পিকচার্স এই প্রজেক্টে বড় অংকের বিনিয়োগ করেছে এবং তারা একে সিনেমার নতুন জয়যাত্রা হিসেবে দেখছে।
চলচ্চিত্রের এই রূপান্তর এমন এক সময়ে ঘটছে যখন করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি এবং নেটফ্লিক্সের মতো প্ল্যাটফর্মগুলোর উত্থানের ফলে মানুষ ঘরে বসে ছবি দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে, কিন্তু নোলাঁ-র ট্রেলার প্রেক্ষাগৃহে সবার সঙ্গে মিলে ছবি দেখার সেই চিরাচরিত রোমাঞ্চের কথা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু ব্যয়বহুল সিক্যুয়েল বক্স অফিসে ব্যর্থ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি আরও বেশি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষণী দৃষ্টিতে দেখলে, হোমারের মহাকাব্যের এই রূপান্তর পরিচালককে তাঁর প্রিয় বিষয়গুলো—যেমন সময়, স্মৃতি এবং অজানার সঙ্গে মানুষের লড়াই নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এর পেছনে আর্থিক সমীকরণও রয়েছে; এশীয় বাজারের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং ক্রমবর্ধমান বাজেটের ভিড়ে নোলাঁ-কে এমন একটি ছবি উপহার দিতে হবে যা একইসঙ্গে সমালোচকদের মন জয় করবে এবং অতি-জটিলতার ফাঁদ এড়িয়ে সাধারণ দর্শকদেরও মুগ্ধ করবে।
বিষয়টি বুঝতে ‘ইন্টারস্টেলার’-এর কথা ভাবা যেতে পারে, যেখানে নোলাঁ বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলোকে একটি আবেগঘন পারিবারিক গল্পের আবহে তুলে ধরে বিমূর্ত বিষয়গুলোকে সবার কাছে সহজবোধ্য করেছিলেন। এখানেও একই ধরনের কৌশলের মাধ্যমে প্রাচীন এই পৌরাণিক কাহিনী বর্তমানের বিশৃঙ্খল পৃথিবীতে মানুষের অর্থ খোঁজার এক প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠতে পারে, যেখানে প্রতিটি দর্শক ওডিসিয়াসের যাত্রার মাঝে নিজেদের জীবনেরই ছায়া খুঁজে পাবেন।
পরিশেষে, ট্রেলারটি ঘিরে এই উন্মাদনা চলচ্চিত্রের এমন এক ভবিষ্যতের পথ দেখাচ্ছে যেখানে শক্তিশালী দূরদর্শী নির্মাতারা কোনো অ্যালগরিদমের দাস না হয়ে নিজেরাই শিল্পের ধারা নির্ধারণ করবেন। যদি ‘ওডিসি’ প্রত্যাশা পূরণ করতে পারে, তবে তা স্টুডিওগুলোকে আরও মৌলিক প্রজেক্ট হাতে নিতে উৎসাহিত করবে এবং চলচ্চিত্রকে নিছক বিনোদনের সামগ্রীর বদলে আবারও একটি সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় রূপান্তর করবে।



