এনিড ব্লাইটনের কালজয়ী সাহিত্যকর্ম 'দ্য ম্যাজিক ফারঅ্যাওয়ে ট্রি' এবার বড় পর্দার জাদুকরী দুনিয়ায় পা রাখতে চলেছে। ২০২৬ সালের ২৭ মার্চ যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ডের প্রেক্ষাগৃহে একটি মিউজিক্যাল ফ্যান্টাসি অ্যাডভেঞ্চার হিসেবে চলচ্চিত্রটি মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এই বিশাল প্রকল্পের যাত্রা শুরু হয়েছিল সেই ২০১৪ সালে, যা দীর্ঘ এক দশকের প্রস্তুতি শেষে এখন আলোর মুখ দেখছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করছেন বেন গ্রেগর এবং এর চিত্রনাট্য লিখেছেন প্রখ্যাত লেখক সাইমন ফারনাবি। ফারনাবি এর আগে 'প্যাডিংটন ২' এবং 'ওনকা'-র মতো বিশ্বখ্যাত চলচ্চিত্রে তার অসাধারণ সৃজনশীলতার পরিচয় দিয়েছেন। এই চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করছে নিল স্ট্রিট প্রোডাকশনস, এলিসিয়ান ফিল্ম গ্রুপ এবং অ্যাশল্যান্ড হিল মিডিয়া ফিন্যান্সের মতো নামী প্রতিষ্ঠানগুলো।
সিনেমার মূল কাহিনী আবর্তিত হয়েছে থম্পসন পরিবারকে কেন্দ্র করে। পরিবারের প্রধান দুই চরিত্র পলি এবং টিমের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যথাক্রমে ক্লেয়ার ফয় এবং অ্যান্ড্রু গারফিল্ড। উল্লেখ্য যে, ২০১৭ সালের সাড়া জাগানো ড্রামা 'ব্রিদ'-এ একসঙ্গে কাজ করার পর এই শক্তিশালী অভিনেতা জুটি আবারও পর্দায় ফিরছেন। গল্পে দেখা যাবে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর পেশা হারানোর পর এক প্রকার বাধ্য হয়েই তারা এক ধরণের 'ডিজিটাল ডিটক্স' বা প্রযুক্তি থেকে দূরে থাকার উদ্দেশ্যে ইংল্যান্ডের এক শান্ত ও প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে চলে যান। পরিচালক বেন গ্রেগর ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই আধুনিক রূপান্তরটি একবিংশ শতাব্দীর শিশুদের অতিমারি-পরবর্তী মানসিক উদ্বেগ এবং একাকীত্বের বিষয়গুলোকেও অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে ফুটিয়ে তুলবে। অন্যদিকে, প্রযোজক পিপ্পা হ্যারিসের মতে, সাইমন ফারনাবি তার লেখনীর মাধ্যমে এতে চিরচেনা ব্রিটিশ হাস্যরস ও এক ধরণের প্রাণবন্ত সাবলীলতা যোগ করেছেন।
শহুরে জীবনের ব্যস্ততা ও কোলাহল থেকে দূরে এসে থম্পসন পরিবারের শিশুরা আবিষ্কার করে সেই রহস্যময় এবং নামী 'ম্যাজিক ফারঅ্যাওয়ে ট্রি'। এই বিশাল গাছটি মূলত একটি জাদুকরী প্রবেশদ্বার বা পোর্টাল, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল বিভিন্ন কাল্পনিক ও অদ্ভুত জগতে যাওয়ার পথ তৈরি করে দেয়। এই জগতগুলো বিচিত্র সব চরিত্র এবং বিস্ময়ে ভরপুর। সিল্কি চরিত্রে নিকোলা কফলান, মুন-ফেস চরিত্রে ননসো আনোজি, ডেম ওয়াশালোট চরিত্রে জেসিকা গানিং এবং সসপ্যান ম্যান চরিত্রে ডাস্টিন ডেমরি-বার্নস তাদের অভিনয় প্রতিভা প্রদর্শন করেছেন। গল্পের প্রধান নেতিবাচক চরিত্র ডেম স্ন্যাপ হিসেবে দেখা যাবে রেবেকা ফার্গুসনকে এবং শিশুদের স্নেহময়ী দাদির ভূমিকায় থাকছেন জেনিফার সন্ডার্স। এছাড়া হিরান আবেসেকেরা (অ্যাংরি পিক্সির চরিত্রে), ডিলিট বার্নার্ড-কার্ডি, বিলি গ্যাডসন এবং ফিনিক্স লারোশ থম্পসন পরিবারের সন্তানদের ভূমিকায় অভিনয় করে কাহিনীর গভীরতা বাড়িয়েছেন।
চলচ্চিত্রটির আবহ সংগীত এবং সুরের মূর্ছনা তৈরি করেছেন বিখ্যাত ইনডি-রক ব্যান্ড 'ফ্লোরেন্স প্লাস দ্য মেশিন'-এর কিবোর্ডিস্ট ইসাবেলা সামার্স। তিনি এই ছবির জন্য একটি সম্পূর্ণ মৌলিক গানও রচনা করেছেন যা দর্শকদের মুগ্ধ করবে বলে আশা করা হচ্ছে। চলচ্চিত্রে আসার আগে দীর্ঘ চৌদ্দ বছর সংগীত জগতে সফলভাবে কাজ করা সামার্স এর আগে 'লিটল ফায়ারস এভরিহোয়্যার' এবং 'হ্যালো'-র মতো জনপ্রিয় প্রজেক্টে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। নির্মাতাদের মূল লক্ষ্য হলো, এই জাদুকরী অভিযানের মাধ্যমে থম্পসন পরিবার যেন একে অপরের সাথে নতুন করে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করতে পারে এবং যান্ত্রিক জীবনের বাইরে একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলোর প্রকৃত মূল্য বুঝতে শিখবে। ২০২৪ সালের জুন মাসে বার্কশায়ারের শিনফিল্ড স্টুডিওতে এই সিনেমার মূল চিত্রগ্রহণের কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে।
শিশুসাহিত্যের কিংবদন্তি এনিড ব্লাইটন ১৯৩৯ থেকে ১৯৫১ সালের মধ্যে 'ফারঅ্যাওয়ে ট্রি' সিরিজের মোট চারটি উপন্যাস লিখেছিলেন। এর মধ্যে ১৯৪৩ সালে প্রকাশিত 'দ্য ম্যাজিক ফারঅ্যাওয়ে ট্রি' আজও পাঠকদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান দখল করে আছে। কয়েক দশক পেরিয়ে গেলেও এই বইগুলোর জনপ্রিয়তা বিন্দুমাত্র কমেনি। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় এবং নতুন আঙ্গিকে নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি ব্রিটিশ সিনেমার ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হতে যাচ্ছে। এটি যেমন পুরনো পাঠকদের স্মৃতি রোমন্থন করাবে, তেমনি নতুন প্রজন্মের দর্শকদের কাছে এই ধ্রুপদী রূপকথাকে এক নতুন ও আকর্ষণীয় মাত্রায় উপস্থাপন করবে।



