২০২৬ সালে নেটফ্লিক্সে আসছে বিশ্বখ্যাত সংগীতশিল্পী চার্লস আজনাভুরের বায়োপিক 'মেসিয়ে আজনাভুর'

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

কিংবদন্তি ফরাসি-আর্মেনীয় সংগীতশিল্পী চার্লস আজনাভুরের জীবন অবলম্বনে নির্মিত সংগীতনির্ভর জীবনীমূলক চলচ্চিত্র 'মেসিয়ে আজনাভুর' (Monsieur Aznavour) বিশ্বব্যাপী মুক্তির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। আগামী ৩১ জানুয়ারি, ২০২৬ তারিখে জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে সিনেমাটির বৈশ্বিক প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হবে। ২০২৫ সালের আর্মেনিয়ান চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনী প্রদর্শনীসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক উৎসবে প্রদর্শিত হওয়ার পর, এই ঘোষণাটি চলচ্চিত্রটিকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল।

এই চলচ্চিত্রটি মূলত শাহনুর ভাঘিনাক আজনাভুরিয়ান হিসেবে ১৯২৪ সালের ২২ মে প্যারিসে জন্মগ্রহণ করা বিশ্বখ্যাত শানসোনিয়ার চার্লস আজনাভুরের জীবনকাহিনি। পরিচালক জুটি মেহদি ইদির এবং গ্র্যান্ড কর্পস ম্যালাড (ফ্যাবিয়েন মারসাউদ) এই সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন, যেখানে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন গোল্ডেন গ্লোব এবং বাফটা মনোনীত অভিনেতা তাহার রাহিম। তাহার রাহিম ইতিপূর্বে 'আ প্রফেট' এবং 'দ্য মৌরিতানিয়ান' চলচ্চিত্রে তার অনবদ্য অভিনয়ের জন্য আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৮ সালে মৃত্যুর কিছুকাল আগে আজনাভুর নিজেই এই নির্মাতাদের তার জীবনীচিত্র নির্মাণের জন্য পছন্দ করেছিলেন। ২৬ মিলিয়ন ইউরো বাজেটের এই ফরাসি চলচ্চিত্রটি মূলত ১৯৫০-এর দশকে আজনাভুরের শিল্পী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সংগ্রামের ওপর আলোকপাত করে।

আজনাভুরের কালজয়ী গান 'লা বোহেম' (La Bohème)-এর মতো সুরগুলো পর্দায় জীবন্ত করে তুলতে অভিনেতা তাহার রাহিমকে দীর্ঘ সময় কঠোর কণ্ঠ প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে। চলচ্চিত্রটি ইতিমধ্যে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর ফ্রান্সে এবং ১৪ নভেম্বর রাশিয়ায় মুক্তি পেয়েছে। বিভিন্ন অধ্যায়ে বিভক্ত এই সিনেমাটি সম্পর্কে সমালোচকরা মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ কেউ কাহিনী বর্ণনায় কিছুটা ভাসা-ভাসা ভাবের কথা উল্লেখ করলেও, তারা একবাক্যে স্বীকার করেছেন যে শিল্পীর সংগীতের উত্তরাধিকার এবং তার প্রভাবকে অত্যন্ত নিপুণভাবে এখানে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

চার্লস আজনাভুরের দীর্ঘ ৮৫ বছরের কর্মজীবন ছিল সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর এক অনন্য উদাহরণ। তিনি তার জীবনে প্রায় ২৯৪টি অ্যালবাম প্রকাশ করেছেন এবং বিশ্বের ৯৪টি দেশে ১১০০-এর বেশি কনসার্টে পারফর্ম করেছেন। তবে তার এই যাত্রাপথ মসৃণ ছিল না; খাটো গড়ন এবং কর্কশ কণ্ঠস্বরের কারণে তাকে শুরুর দিকে সংবাদমাধ্যমের প্রবল বিদ্রূপ ও সংশয়ের মুখোমুখি হতে হয়েছিল। একজন আর্মেনীয় অভিবাসী পরিবারের সন্তান হিসেবে ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের অবস্থান তৈরি করতে তাকে যে অদম্য লড়াই করতে হয়েছে, তা এই চলচ্চিত্রে স্পষ্টভাবে চিত্রায়িত হয়েছে। চার্লস ডি গল যার বিশ্বজোড়া খ্যাতির ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন, সেই আজনাভুর একজন দক্ষ অভিনেতা হিসেবে ১৯৯৭ সালে সম্মানজনক 'সেজার' পুরস্কারও লাভ করেন। তার ঐতিহাসিক জন্মভূমি আর্মেনিয়ার প্রতি তার গভীর ভালোবাসা প্রতিফলিত হয়েছে 'পুর তোয়া, আর্মেনি' (Pour toi, Armenie)-এর মতো গানে, যা তিনি স্পিটাক ভূমিকম্পের ক্ষতিগ্রস্তদের স্মরণে রচনা করেছিলেন।

নেটফ্লিক্স কর্তৃক এই চলচ্চিত্রের বৈশ্বিক পরিবেশনা স্বত্ব অর্জন করায় আশা করা হচ্ছে যে, এটি সাধারণ প্রেক্ষাগৃহের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রতিটি প্রান্তের দর্শকদের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। 'মেসিয়ে আজনাভুর' বায়োপিকটি কেবল একজন শিল্পীর জীবনী নয়, বরং এটি একজন মানুষের অদম্য ইচ্ছাশক্তি এবং নিরলস পরিশ্রমের এক প্রামাণ্য দলিল, যা তাকে তার সময়ের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংগীত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল।

26 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Public Radio of Armenia

  • Public Radio of Armenia

  • The California Courier

  • Armenian National Music

  • Wikipedia

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।