MAX ADV Production প্রকাশ করল সম্পূর্ণ এআই-চালিত সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্র ‘AURION’-এর ট্রেলার
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
MAX ADV Production আনুষ্ঠানিকভাবে ‘AURION - La Prima Luce’ নামক চলচ্চিত্রের ট্রেলার উন্মোচন করেছে, যা বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করেছে। স্টুডিওটি দাবি করছে যে এটি বিশ্বের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সায়েন্স ফিকশন বা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীমূলক চলচ্চিত্র যা সম্পূর্ণভাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর মাধ্যমে তৈরি করা হয়েছে। তারা আরও জানিয়েছে যে চিত্রনাট্য রচনা থেকে শুরু করে ভিজ্যুয়াল ডিজাইন এবং চরিত্র নির্মাণ—সৃজনশীল প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে এআই সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এটি মূলত মানুষের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা এবং আধুনিক প্রযুক্তির এক অনন্য সমন্বয় হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে, যা চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রথাগত ধারণাগুলোকে চ্যালেঞ্জ করে।
এই চলচ্চিত্রের কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ‘অরিয়ন’ (Aurion) নামক একটি রহস্যময় গ্রহকে কেন্দ্র করে। সেখানে তাদের কেন্দ্রীয় নক্ষত্রকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য বিভিন্ন সভ্যতাকে বলিদান বা উৎসর্গ করা হয়। গল্পের মূল নায়ক ড্যারেন (Daren) এই নিষ্ঠুর মহাজাগতিক নিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরিচালক মাসিমিলিয়ানো ট্রায়াসি (Massimiliano Triassi) ‘AURION’-কে চলচ্চিত্রের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় বাজি হিসেবে দেখছেন। তার মতে, এআই-চালিত চলচ্চিত্র নির্মাণের যুগ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে এবং এটি সিনেমা জগতের সংজ্ঞাই বদলে দেবে। এই প্রকল্পটি একদল অগ্রগামী মানুষের দেড় বছরেরও বেশি সময়ের নিরলস পরিশ্রমের ফসল, যারা এই কঠিন চ্যালেঞ্জে বিশ্বাস রেখেছিলেন এবং সফলভাবে তা বাস্তবায়ন করেছেন।
মাত্র দেড় মিনিটের এই ট্রেলারটি তৈরি করার প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত জটিল এবং এতে প্রায় ১৭টি ভিন্ন ভিন্ন সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। এতে অত্যাধুনিক এআই প্রযুক্তির পাশাপাশি প্রথাগত পোস্ট-প্রোডাকশন টুলস বা সম্পাদনা সরঞ্জামের এক চমৎকার সংমিশ্রণ ঘটানো হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত অংশটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে দলটিকে টানা ১৫ দিন প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছে। ট্রায়াসির পাশাপাশি এই সৃজনশীল ও প্রযুক্তিগত বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন গ্রাজিয়ানো ইয়াকুয়েল্লি (Graziano Yacuelli), ড্যানিয়েল ভায়োলান্তে (Daniele Violante) এবং ফাবিও রুফো (Fabio Ruffo)। তাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এআই-এর মাধ্যমে এক নতুন ধরনের সিনেমাটিক অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।
ইতালির নেপলস শহর থেকে আসা এই সায়েন্স ফিকশন চলচ্চিত্রটি নির্মাণে কোনো প্রথাগত ক্যামেরা, বাস্তব শুটিং সেট বা লেন্সের সামনে কোনো রক্ত-মাংসের অভিনেতার প্রয়োজন হয়নি। পুরো বিষয়টি ডিজিটাল টুল এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। চিত্রনাট্যে দেখা যায়, সিন্থেটিক হিউম্যানয়েড বা কৃত্রিম মানব সভ্যতা গ্রহের সূক্ষ্ম ভারসাম্য নষ্ট করছে। ড্যারেন যখন আবিষ্কার করেন যে নক্ষত্রকে বাঁচাতে এই আত্মত্যাগ অপরিহার্য, তখন তিনি এক কঠিন সংকটে পড়েন। কারণ তার এই ব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা পুরো সৌরজগতকেই ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে পারে। এই জটিল নৈতিক দ্বন্দ্বই চলচ্চিত্রটির মূল উপজীব্য বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অডিও-ভিজ্যুয়াল শিল্পে এআই-এর প্রভাব নিয়ে বিশ্বব্যাপী চলমান বিতর্কের মধ্যেই ‘AURION’-এর আত্মপ্রকাশ ঘটল। যদিও অনেক প্রকল্প নিজেদের ‘এআই-গল্প’ হিসেবে দাবি করে, তবে ‘AURION’ জেনারেটিভ টুলের সাহায্যে তৈরি প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য সায়েন্স ফিকশন হিসেবে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করছে। এআই ব্যবহারের ফলে উৎপাদন খরচ অনেকাংশে কমে যায়, যা ছোট স্টুডিওগুলোর জন্য এই ধরনের স্বাধীন ও বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সহজ করে তোলে। এটি চলচ্চিত্র নির্মাণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে যেখানে সৃজনশীলতা আর বাজেটের সীমাবদ্ধতায় আটকে থাকবে না। এই স্বাধীন প্রকল্পটি প্রমাণ করে যে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে সীমিত সম্পদেও বিশ্বমানের কাজ করা সম্ভব।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Il Messaggero
Askanews
Tiscali Tv
Drive.com.au
il Napolista
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
We've reached the point. Sony Pictures and Pop Mart will produce a feature film with... Labubu in the lead role. The director will be Paul King, known for the Paddington duology and the film Wonka. He will be working on the script with Steven Levenson, a Tony Award winner for
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।


