অস্কারস: HUNTR/X 'KPop Demon Hunters' এর অ্যান্থেম 'Golden' পরিবেশন করেন
কে-পপের জয়জয়কার: ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ যেভাবে অস্কারের ইতিহাস বদলে দিল
লেখক: Svetlana Velhush
২০২৬ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত ৯৮তম অস্কার একাডেমি অ্যাওয়ার্ডস বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। এই আসরেই বিশ্ব চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ শিখরে কে-পপ (K-Pop) সংস্কৃতির আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। এই বছরের সবচেয়ে বড় চমক ছিল অ্যানিমেটেড ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ (KPop Demon Hunters)-এর "নিয়ন সোল" (Neon Soul) গানটির বিজয়। বিশেষত চলচ্চিত্রের জন্য তৈরি একটি ভার্চুয়াল ব্যান্ডের গাওয়া এই গানটি হলিউডের বাঘা বাঘা সঙ্গীতজ্ঞদের পেছনে ফেলে শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট অর্জন করেছে। এটিই প্রথমবার যখন কোনো ‘ডিজিটাল শিল্পী’ একাডেমি থেকে এমন উচ্চমানের সম্মাননা পেল, যা বিনোদন শিল্পে মেটাভার্স এবং পূর্ব এশীয় নান্দনিকতার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
এই অ্যানিমেটেড সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে একদল কে-পপ তারকাকে ঘিরে, যারা দিনের আলোতে বিশ্বখ্যাত আইডল হিসেবে জীবনযাপন করেন, কিন্তু রাতের আঁধারে তারা হয়ে ওঠেন অশুভ শক্তির বিনাশকারী। তারা এমন সব দানব বা ডেমনদের শিকার করেন যারা মানুষের মনের হীনম্মন্যতা ও অনিশ্চয়তাকে পুঁজি করে বেঁচে থাকে। আধুনিক প্রেক্ষাপটে কোরীয় লোকগাথা বা ফোকলোর থেকে অনুপ্রাণিত এই চিত্রনাট্য বিশ্বজুড়ে দর্শকদের মন জয় করেছে। ফলস্বরূপ, বিশ্বব্যাপী বক্স অফিসে ৮৫০ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি আয় করে এটি বছরের সর্বোচ্চ আয়কারী অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের মর্যাদা পেয়েছে। পরিচালক ম্যাগি ক্যাং এবং ক্রিস অ্যাপেলহ্যান্স প্রথাগত অঙ্কন শৈলী এবং হাইপার-রিয়েলিস্টিক সিজিআই (CGI) প্রযুক্তির এক অনন্য সংমিশ্রণ ঘটিয়েছেন, যা বিশেষ করে নাচের দৃশ্যগুলোতে এক অভাবনীয় দৃশ্যকাব্য তৈরি করেছে।
অস্কারের এই বিজয় কেবল সম্মাননার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ব বাজারে এর ব্যাপক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে। এই ঘোষণার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরীয় মিডিয়া জায়ান্ট হাইব (HYBE), এসএম (SM) এবং ওয়াইজি (YG)-এর শেয়ার সূচক ১২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই সাফল্যের রেশ ধরে সনি পিকচার্স (Sony Pictures) ইতিমধ্যেই ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স লাইভ’ (KPop Demon Hunters Live) নামক একটি বিশ্ব সফরের ঘোষণা দিয়েছে। এই কনসার্টগুলোতে সিনেমার চরিত্রগুলোকে উচ্চ প্রযুক্তির হলোগ্রাম হিসেবে মঞ্চে পারফর্ম করতে দেখা যাবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই চলচ্চিত্রের সাফল্য কেবল একটি সফল বিপণন কৌশল নয়, বরং এটি গত এক দশকের ‘কোরীয় ঢেউ’ বা ‘হাল্লু’ (Hallyu)-র নিরবচ্ছিন্ন আধিপত্যের ফল। এই ঢেউ এখন এতটাই শক্তিশালী যে তা হলিউডের মতো রক্ষণশীল প্রতিষ্ঠানকেও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে।
চলচ্চিত্র সমালোচকদের মতে, "নিয়ন সোল" গানটির জনপ্রিয়তা প্রমাণ করে যে সঙ্গীতের কোনো ভৌগোলিক সীমানা নেই। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যুগে ডিজিটাল শিল্পীদের এই উত্থান ভবিষ্যতে বিনোদন জগতের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’ কেবল একটি সিনেমা নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক বিপ্লবের প্রতীক যা এশীয় সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই সিনেমার মাধ্যমে কোরীয় ঐতিহ্যের সাথে আধুনিক প্রযুক্তির যে মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, তা আগামী দিনের নির্মাতাদের জন্য এক নতুন অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। বিশেষ করে অ্যানিমেশন শিল্পে এটি একটি নতুন বেঞ্চমার্ক তৈরি করেছে যা আগামী কয়েক বছর ধরে আলোচিত হবে।
পরিশেষে বলা যায়, ৯৮তম অস্কারে কে-পপের এই জয়জয়কার বিশ্ব বিনোদন মানচিত্রে এক দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। এটি স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, বৈশ্বিক দর্শক এখন নতুন ধরনের গল্প এবং বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতির প্রতি অনেক বেশি আগ্রহী। ‘কে-পপ ডেমন হান্টার্স’-এর এই জয়যাত্রা কেবল শুরু, যা আগামীতে অ্যানিমেশন এবং মিউজিক ইন্ডাস্ট্রিতে আরও অনেক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তটি প্রমাণ করে যে সৃজনশীলতা যখন প্রযুক্তির সাথে হাত মেলায়, তখন তা সমস্ত প্রথাগত বাধা অতিক্রম করে বিশ্বজয় করতে পারে।
উৎসসমূহ
The Hollywood Reporter — Анализ победы «Neon Soul» и её влияния на музыкальные категории Оскара.



