বিখ্যাত অভিনেতা ইদ্রিস এলবা আবারও তার আইকনিক গোয়েন্দা চরিত্র জন লুথারের ভূমিকায় পর্দায় ফিরছেন। বর্তমানে লন্ডনের বিভিন্ন স্থানে নেটফ্লিক্সের 'লুথার: দ্য ফলেন সান' চলচ্চিত্রের নামহীন সিক্যুয়েলের চিত্রগ্রহণ পুরোদমে চলছে। এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পের নির্মাণ কাজ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হয়েছে এবং ২০২৬ সালের মে মাসের মধ্যে শুটিং সম্পন্ন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে 'হকসমুর' (Hawksmoor) ছদ্মনামে এই ছবির কাজ এগিয়ে চলছে এবং সম্প্রতি লন্ডনের ক্যানারি ওয়ার্ফ এলাকায় অভিনেতাকে একটি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ ধাওয়া করার দৃশ্যে অভিনয় করতে দেখা গেছে।
এই নতুন ডিটেকটিভ থ্রিলারটির চিত্রনাট্য আবারও রচনা করেছেন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মূল স্রষ্টা নীল ক্রস। পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন জেমি পেইন, যিনি এর আগেও এই জনপ্রিয় সিরিজটিকে সফলভাবে বড় পর্দায় রূপান্তর করেছিলেন। এই সিক্যুয়েলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে, রুথ উইলসনকে আবারও অ্যালিস মরগান হিসেবে দেখা যাবে, যদিও টেলিভিশন সিরিজের পঞ্চম সিজনের শেষে তার চরিত্রের মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা করা হয়েছিল। এছাড়াও ডারমোট ক্রাউলি ডিএসইউ মার্টিন শেঙ্ক হিসেবে অভিনয় করবেন। নেটফ্লিক্সের আনুষ্ঠানিক সারসংক্ষেপ অনুযায়ী, লন্ডনে হঠাৎ করেই একগুচ্ছ নৃশংস ও আপাতদৃষ্টিতে লক্ষ্যহীন হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে শুরু করবে, যার ফলে লুথারকে গোপনে তার দায়িত্বে ফিরে আসতে হবে এবং সব দিক থেকে আসা হুমকির মোকাবিলা করতে হবে।
প্রথম চলচ্চিত্রের শেষ অংশে আইসল্যান্ডের তুষারশুভ্র দৃশ্য দেখা গেলেও, এই নতুন সিক্যুয়েলটি মূলত লন্ডনের ঘিঞ্জি, বৃষ্টিভেজা রাস্তা এবং যুক্তরাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হচ্ছে। লন্ডনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বর্তমানে শুটিং চলছে, যার মধ্যে ১৬ মার্চ ক্যানারি ওয়ার্ফে কৃত্রিম বৃষ্টির যন্ত্র ব্যবহার করে একটি বিশেষ গুমোট আবহ তৈরি করা হয়েছিল। এর আগে ১৮ ফেব্রুয়ারি উত্তর লন্ডনের পার্কল্যান্ড ওয়াক এবং ক্রাউচ এন্ড এলাকায় শুটিং ইউনিটকে দেখা গিয়েছিল, যেখানে গভীর রাতে সাইকেলে ধাওয়া করার একটি রোমাঞ্চকর দৃশ্য ধারণ করা হয়। এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও রহস্যময় মেজাজকে আরও ফুটিয়ে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই চলচ্চিত্রের কাজের ব্যস্ততার মাঝেই ইদ্রিস এলবা ব্যক্তিগত জীবনে এক অনন্য সম্মাননা অর্জন করেছেন। ২০২৬ সালের শুরুর দিকে চলচ্চিত্র, টেলিভিশন এবং জনহিতকর কাজে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজা তৃতীয় চার্লস তাকে নাইটহুড উপাধিতে ভূষিত করেন, যার ফলে তিনি এখন 'স্যার ইদ্রিস এলবা' নামে পরিচিত। তিনি তার স্ত্রী সাবরিনার সাথে যৌথভাবে 'এলবা হোপ ফাউন্ডেশন' (Elba Hope Foundation) প্রতিষ্ঠা করেছেন, যা মূলত লন্ডনের তরুণদের সহায়তা প্রদান এবং ছুরি দিয়ে করা অপরাধ (knife crime) দমনে কাজ করে। জানা গেছে যে, নেটফ্লিক্সের সাথে এলবার আরও একটি বিশেষ প্রজেক্ট রয়েছে—রাজা তৃতীয় চার্লসকে নিয়ে একটি তথ্যচিত্র, যা ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
ইদ্রিস এলবার মতে, এই সিক্যুয়েলটি আগের কিস্তির তুলনায় "আরও বেশি অন্ধকার" এবং মনস্তাত্ত্বিকভাবে জটিল হতে চলেছে। উচ্চ বাজেটের এই অ্যাকশন মুভিটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজের বিশালতার কথা বিবেচনা করে ধারণা করা হচ্ছে যে, ২০২৭ সালের প্রথমার্ধে বা মাঝামাঝি সময়ে এটি নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মে বিশ্বব্যাপী মুক্তি পাবে। পরিচালক জেমি পেইনের মতে, লুথার চরিত্রটি একজন "চিরন্তন নায়ক", যে সাধারণ মানুষের সুরক্ষার জন্য নিজের স্বাভাবিক ক্ষমতার বাইরে গিয়ে দানবীয় শক্তির বিরুদ্ধে লড়তে সর্বদা প্রস্তুত। এই নতুন চলচ্চিত্রটি লুথারের আত্মপরিচয় এবং তার নৈতিক সংগ্রামের দিকগুলোকে আরও গভীরভাবে অন্বেষণ করবে বলে ভক্তরা প্রত্যাশা করছেন।



