জুলাইয়া জ্যাকম্যানের চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় নির্মিত ঐতিহাসিক ফ্যান্টাসি রোমান্টিক চলচ্চিত্র 'হিরোর ১০০ রাত' (100 Nights of the Hero) আগামী ২০২৫ সালের ৫ই ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রস্তুত। এই ৯০ মিনিটের ছবিটি ইজাবেল গ্রিনবার্গের গ্রাফিক নভেল 'হিরোর একশো এক রাত'-এর চলচ্চিত্র রূপ, যা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের বিখ্যাত গল্প সংকলন 'আরব্য রজনী' বা 'এক হাজার এক রাত' থেকে অনুপ্রেরণা লাভ করেছে। ছবিটি মুক্তির অপেক্ষায় দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
পরিচালক জ্যাকম্যান, যিনি ২০২৩ সালের লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র 'বোনাস ট্র্যাক'-এর জন্য পরিচিতি লাভ করেছিলেন, এই নতুন প্রযোজনার চিত্রনাট্যও নিজেই লিখেছেন। গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চেরি নামের এক কেন্দ্রীয় চরিত্র, যার আনুগত্য এক কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হয়। এই পরীক্ষার সূত্রপাত হয় তার স্বামী জেরোম এবং তার বন্ধু ম্যানফ্রেডের মধ্যে হওয়া একটি বাজিকে কেন্দ্র করে। এই বাজির ফলস্বরূপ চেরি এক জটিল প্রেম-ত্রিকোণে জড়িয়ে পড়ে, যেখানে তার জীবনে প্রবেশ করে তার মোহময়ী বন্ধু এবং তার বিশ্বস্ত পরিচারিকা হিরো।
চলচ্চিত্রটির প্রধান অভিনয়শিল্পীদের মধ্যে রয়েছেন মাইকা মনরো, যিনি চেরির ভূমিকায় অভিনয় করেছেন, আমির এল-মাসরি জেরোমের চরিত্রে এবং এমা করিন হিরোর ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। এছাড়াও, এই ছবিতে সঙ্গীতশিল্পী Charli XCX-এর অভিনয় জগতে অভিষেক ঘটতে চলেছে। তাদের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়েছেন প্রখ্যাত অভিনেতা রিচার্ড ই. গ্রান্ট এবং ফেলিসিটি জোনস। সিনেমাটির প্রযোজনা সংস্থা হলো এরিবাস পিকচার্স এবং প্রজেক্ট ইনফিনিটি, আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর পরিবেশনার দায়িত্ব সামলাচ্ছে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম কোম্পানি।
PG-13 রেটিং প্রাপ্ত এই সিনেমাটির মোট দৈর্ঘ্য ৯০ মিনিট। এটি মধ্যযুগীয় পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পটভূমিতে লিঙ্গ, যৌনতা, সামাজিক অবস্থান এবং ক্ষমতার মতো গভীর বিষয়বস্তুগুলিকে অনুসন্ধান করে। ছবিটি ইতিমধ্যেই বিশ্ব মঞ্চে প্রশংসা কুড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ৬ই সেপ্টেম্বর ৮২তম ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে এর বিশ্ব প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হওয়ার পর এবং ৬৯তম বিএফআই লন্ডন ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে সমাপনী চলচ্চিত্র হিসেবে প্রদর্শিত হওয়ার পর সমালোচকরা এর বুদ্ধিদীপ্ত সংলাপ এবং সুগঠিত জগৎ নির্মাণের প্রশংসা করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, চলচ্চিত্রটির চিত্রগ্রহণ শুরু হয়েছিল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে।
জ্যাকম্যানের এই সৃষ্টি কেবল একটি রোমান্টিক কাহিনি নয়, বরং এটি সামাজিক কাঠামো এবং ব্যক্তিগত সম্পর্কের জটিলতা নিয়ে একটি গভীর পর্যবেক্ষণ। গ্রাফিক নভেল থেকে অনুপ্রাণিত হলেও, চলচ্চিত্রটি নিজস্ব একটি স্বতন্ত্র শৈলী তৈরি করেছে, যা দর্শকদের মধ্যযুগীয় পরিবেশে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। বিশেষ করে, চেরি, জেরোম এবং হিরোর মধ্যকার সম্পর্কের টানাপোড়েন দর্শকদের গভীরভাবে প্রভাবিত করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ছবিটি একইসঙ্গে ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং ফ্যান্টাসির উপাদানগুলিকে দক্ষতার সাথে মিশিয়ে এক অনন্য শিল্পকর্ম তৈরি করেছে।



