স্টকহোম চলচ্চিত্র উৎসবে সামাজিক ড্রামা ‘প্যাভিলিয়ন’-এর জোড়া সাফল্য
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে (Stockholm City Film Festival) পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘প্যাভিলিয়ন’ (Pavilion) আন্তর্জাতিক স্তরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। এই উৎসবে সিনেমাটি দুটি প্রধান পুরস্কার জিতে নিয়েছে, যা স্বাধীন চলচ্চিত্রের একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে এই উৎসবের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বকে আবারও প্রমাণ করল। আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন প্রতিভাদের মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এই সাফল্য একটি বিশেষ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক বিচারক প্যানেলের সিদ্ধান্তে পরিচালক ডিনো মুস্তাফিচ (Dino Mustafić) ‘সেরা পরিচালক’ (Best Director – Feature Film) সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। একই সাথে, মূল চলচ্চিত্রটি ‘সেরা পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র’ (Best Feature Film) হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৬৯ সালের ৬ জুলাই সারায়েভোতে জন্মগ্রহণকারী ডিনো মুস্তাফিচ একজন প্রখ্যাত বসনীয় থিয়েটার ও চলচ্চিত্র পরিচালক। তিনি এর আগে সারায়েভোর ন্যাশনাল থিয়েটারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৩ সালে তার প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘রিম্যাক’ (Remake) মুক্তির পর থেকেই তিনি জটিল সামাজিক বিষয়গুলোকে সিনেমার শৈল্পিক ভাষায় ফুটিয়ে তোলার জন্য পরিচিতি লাভ করেন।
‘প্যাভিলিয়ন’ একটি সামাজিক ড্রামা যা মূলত মানুষের আত্মমর্যাদা এবং প্রাতিষ্ঠানিক অন্যায়ের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রটি একটি বহুজাতিক যৌথ প্রযোজনা, যেখানে অভিনয় করেছেন প্রখ্যাত ক্রোয়েশীয় ও যুগোস্লাভ অভিনেতা রাদে শেরবেজিয়া (Rade Šerbedžija)। ১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই ক্রোয়েশিয়ার বুনিচে জন্মগ্রহণকারী এই অভিনেতা হলিউডেও অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি ‘আইজ ওয়াইড শাট’ (Eyes Wide Shut) এবং ‘মিশন: ইম্পসিবল ২’ (Mission: Impossible 2)-এর মতো বিশ্বখ্যাত সিনেমায় কাজ করেছেন। সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই প্রকল্পে তার অংশগ্রহণ চলচ্চিত্রটির গভীরতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
স্টকহোম সিটি ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল প্রতি মাসে প্রতিযোগিতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এই উৎসবে ‘প্যাভিলিয়ন’ দলের এই দ্বৈত বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসের এই আসরে ‘নোয়ার অসলো’ (Noir Oslo) এবং ডকুমেন্টারি ‘ইন নিড অফ সি-ওয়াটার’ (In Need of Seawater)-এর মতো কাজগুলোও প্রশংসিত হয়েছে। এই সাফল্য চলচ্চিত্রটির বিশ্বব্যাপী পরিবেশনা এবং অন্যান্য উৎসবে অংশগ্রহণের পথকে আরও প্রশস্ত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ডিনো মুস্তাফিচ ১৯৯৭ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক থিয়েটার ফেস্টিভ্যাল ‘MESS’-এর নেতৃত্ব দিয়েছেন, এবং এই নতুন সাফল্য তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। অন্যদিকে, রাদে শেরবেজিয়া ২০১৯ সালে সম্মানজনক ‘মেরি পিকফোর্ড অ্যাওয়ার্ড’ (Mary Pickford Award) লাভ করেন এবং বর্তমানেও ইউরোপীয় ও মার্কিন চলচ্চিত্রে সক্রিয় রয়েছেন। এই দুই গুণী ব্যক্তিত্বের সম্মিলিত প্রচেষ্টা ‘প্যাভিলিয়ন’ চলচ্চিত্রটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। প্রাতিষ্ঠানিক চাপের মুখে মানবিক মর্যাদার লড়াইয়ের যে গল্প এই ড্রামায় চিত্রিত হয়েছে, তা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Tacno.net
FilmFreeway
FilmFreeway
N1
Dnevni Avaz
Stockholms internationella filmfestival
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
