কিংবদন্তি কার্থাজিনীয় সেনাপতি হ্যানিবাল বার্কাকে নিয়ে নির্মিতব্য নতুন একটি ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রের কাজ এই গ্রীষ্মেই ইতালিতে শুরু হতে যাচ্ছে। অস্কারজয়ী অভিনেতা ডেনজেল ওয়াশিংটন এবং প্রখ্যাত পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়া এই বিশাল বাজেটের প্রজেক্টে আবারও একত্রিত হয়েছেন। রোমের বিখ্যাত সিনেসিটা স্টুডিওকে (Cinecittà Studios) এই সিনেমার প্রধান নির্মাণ কেন্দ্র হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। 'গ্ল্যাডিয়েটর' খ্যাত চিত্রনাট্যকার জন লোগান এই সিনেমার কাহিনী লিখেছেন, যেখানে হ্যানিবালের সেই দুঃসাহসিক সামরিক অভিযানের চিত্র ফুটে উঠবে, যার মধ্যে ছিল যুদ্ধহস্তী নিয়ে ইতালিতে আক্রমণ করার মতো ঐতিহাসিক ঘটনা।
ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সমরনায়ক হিসেবে স্বীকৃত হ্যানিবাল দ্বিতীয় পিউনিক যুদ্ধের সময় রোমান প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘস্থায়ী ও নির্ণায়ক যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিলেন। ২১৮ খ্রিস্টপূর্বাব্দে সাগুনটাম শহর দখলের মধ্য দিয়ে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের সূত্রপাত ঘটে। এরপর তিনি তার বিশাল বাহিনী নিয়ে আল্পস পর্বতমালা অতিক্রম করার এক অসাধ্য সাধন করেন। ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, তার সেই বাহিনীতে উত্তর আফ্রিকার শক্তিশালী যুদ্ধহস্তী অন্তর্ভুক্ত ছিল, যদিও প্রতিকূল আবহাওয়ায় যাত্রাপথেই তার অনেক সৈন্য ও পশু প্রাণ হারিয়েছিল। তা সত্ত্বেও, হ্যানিবাল ট্রেবিয়া, ট্রাসিমিন হ্রদ এবং কানায়ের যুদ্ধে রোমানদের শোচনীয়ভাবে পরাজিত করেন এবং প্রায় পনের বছর ধরে দক্ষিণ ইতালির অধিকাংশ অঞ্চল নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন।
এই চলচ্চিত্রটি ডেনজেল ওয়াশিংটন এবং পরিচালক অ্যান্টোনি ফুকুয়ার মধ্যে ষষ্ঠবারের মতো পেশাদার সহযোগিতার প্রতিফলন। তাদের সফল জুটির যাত্রা শুরু হয়েছিল ২০০১ সালের কালজয়ী সিনেমা 'ট্রেনিং ডে'-এর মাধ্যমে। পরবর্তী বছরগুলোতে তারা একে একে 'দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট সেভেন' এবং জনপ্রিয় 'দ্য ইকুয়ালাইজার' সিরিজের তিনটি সিনেমা উপহার দিয়েছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত 'দ্য ইকুয়ালাইজার ৩' সিনেমাটির শুটিংও মূলত ইতালির বিভিন্ন মনোরম স্থানে সম্পন্ন হয়েছিল। বর্তমানে এই নতুন ঐতিহাসিক মহাকাব্যের জন্য ইতালিতে লোকেশন স্কাউটিং এবং প্রাক-নির্মাণ প্রস্তুতির কাজগুলো দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে।
সিনেমাটির চিত্রনাট্যকার জন লোগান ইতিপূর্বে তিনবার অস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন এবং তিনি 'দ্য অ্যাভিয়েটর'-এর মতো প্রশংসিত সিনেমার জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। অন্যদিকে, এই প্রজেক্টের সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করবেন তিনবারের অস্কার বিজয়ী রবার্ট রিচার্ডসন, যার অসাধারণ কাজের তালিকায় রয়েছে 'ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন হলিউড' এবং 'জেএফকে'-এর মতো চলচ্চিত্র। যদিও ইতিহাসের পাতায় হ্যানিবাল শেষ পর্যন্ত স্কিপিও আফ্রিকানাসের পাল্টা আক্রমণের মুখে উত্তর আফ্রিকার জামার যুদ্ধে রোমানদের কাছে পরাজিত হয়েছিলেন, তবুও এই বিগ-বাজেট ব্লকবাস্টারটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সিনেমাটিক ইভেন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।
ইতালির ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং রোমের অত্যাধুনিক স্টুডিওর সমন্বয় এই সিনেমাটিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে চলচ্চিত্র বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ডেনজেল ওয়াশিংটনের মতো শক্তিশালী অভিনেতার হ্যানিবাল চরিত্রে রূপদান এবং অ্যান্টোনি ফুকুয়ার সুনিপুণ পরিচালনা দর্শকদের এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। এই গ্রীষ্মে শুরু হতে যাওয়া চিত্রায়নটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ নয়, বরং প্রাচীন ইতিহাসের এক রোমহর্ষক অধ্যায়কে আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে বড় পর্দায় জীবন্ত করে তোলার এক বিশাল প্রচেষ্টা।



