ফ্যাশন জগতের বিবর্তন ও নৈতিকতা: ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ নিয়ে মেরিল স্ট্রিপ ও অ্যান হ্যাথাওয়ের ভাবনা

সম্পাদনা করেছেন: Katerina S.

২০২৬ সালের ১ মে ২০থ সেঞ্চুরি স্টুডিওস তাদের বহুল প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই সিনেমাটি ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির বিবর্তিত মানদণ্ড এবং এর অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনগুলোকে আবারও বিশ্ববাসীর সামনে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। মিলান ফ্যাশন উইকের চিত্রগ্রহণের সময় মেরিল স্ট্রিপ তার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করেছেন। তিনি আবারও তার কালজয়ী চরিত্র মিরান্ডা প্রিস্টলি হিসেবে পর্দায় ফিরছেন। এই শুটিং চলাকালীন তার সাথে ছিলেন স্ট্যানলি টুচি, যিনি নাইজেল চরিত্রে অভিনয় করছেন এবং তাদের উপস্থিতি ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে।

বিশেষ করে ডলচে অ্যান্ড গাবানা (Dolce & Gabbana) বসন্ত-গ্রীষ্ম ২০২৬ ফ্যাশন শো-তে এই সিনেমার কিছু গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য ধারণ করা হয়েছে। এই দৃশ্যগুলো চলচ্চিত্রের মূল কাহিনীর একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে কাজ করবে। এখানে মিরান্ডা প্রিস্টলিকে এমন একটি সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে দেখা যাবে যেখানে ঐতিহ্যবাহী প্রিন্ট মিডিয়া বা মুদ্রণ ব্যবসা ধীরে ধীরে তার জৌলুস হারাচ্ছে। এই ডিজিটাল যুগে টিকে থাকার লড়াই এবং ফ্যাশন জগতের রূঢ় বাস্তবতা এই সিক্যুয়েলে অত্যন্ত নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলে জানা গেছে।

মিলান ফ্যাশন শোতে অত্যন্ত কৃশকায় মডেলদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখে মেরিল স্ট্রিপ তার গভীর বিস্ময় ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লক্ষ্য করেছেন যে, মডেলদের এই শারীরিক গঠন ফ্যাশন শিল্পের প্রতিনিধিত্বমূলক অভ্যাসের ক্ষেত্রে একটি নেতিবাচক বা পশ্চাদপদ পদক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়। অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, তিনি বিশ্বাস করতেন এই ধরনের শারীরিক মানদণ্ডের সমস্যাটি বহু বছর আগেই সমাধান হয়ে গেছে। তার এই পর্যবেক্ষণ বর্তমান ফ্যাশন জগতের সৌন্দর্যবোধের ওপর নতুন করে নৈতিক প্রশ্ন তুলেছে।

মেরিল স্ট্রিপের এই উদ্বেগের সাথে তাৎক্ষণিকভাবে একমত পোষণ করেছেন তার সহ-অভিনেত্রী অ্যান হ্যাথাওয়ে, যিনি অ্যান্ডি স্যাক্স চরিত্রে অভিনয় করছেন। স্ট্রিপের বর্ণনা অনুযায়ী, হ্যাথাওয়ে বিষয়টি দেখার পর মোটেও চুপ করে থাকেননি। তিনি অবিলম্বে চলচ্চিত্রের প্রযোজকদের সাথে যোগাযোগ করেন এবং একটি জোরালো দাবি উত্থাপন করেন। তিনি নিশ্চিত করেন যে, সিনেমার দৃশ্যে যে মডেলদের ব্যবহার করা হবে, তারা যেন কোনোভাবেই এমন চরম কৃশকায় বা অস্বাস্থ্যকর শারীরিক গঠনের অধিকারী না হন। এই পদক্ষেপটি সেটে উপস্থিত সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।

হ্যাথাওয়ের এই দৃঢ় ও নীতিগত অবস্থানকে মেরিল স্ট্রিপ অত্যন্ত প্রশংসনীয় এবং সাহসিকতাপূর্ণ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি মনে করেন, এটি হলিউডের বড় বাজেটের ফ্যাশন ভিত্তিক চলচ্চিত্রগুলোতে মডেলদের উপস্থাপনার ধরনে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে পারে। এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র একটি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি ফ্যাশন জগতকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক, স্বাস্থ্যকর এবং বাস্তবসম্মত করার একটি বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা কেবল ফ্যাশন জগতের চাকচিক্যই দেখবেন না, বরং এর পেছনের নৈতিক লড়াইগুলোও উপলব্ধি করতে পারবেন। মেরিল স্ট্রিপ এবং অ্যান হ্যাথাওয়ের মতো অভিজ্ঞ অভিনেত্রীদের এই সচেতনতা প্রমাণ করে যে, পর্দার পেছনের শিল্পীরাও এখন সামাজিক দায়বদ্ধতা পালনে অনেক বেশি সোচ্চার। ‘দ্য ডেভিল ওয়্যারস প্রাডা ২’ তাই কেবল একটি বিনোদনমূলক সিনেমা নয়, বরং এটি আধুনিক যুগের পরিবর্তনশীল মূল্যবোধ এবং ফ্যাশন শিল্পের নতুন এক দর্পণ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে।

14 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Terra

  • Le Journal de Montreal

  • TheWrap

  • Wikipedia

  • The Shade Room

  • Town & Country Magazine

  • Marie Claire

  • Rolling Stone Canada

  • The Independent

  • Town & Country Magazine

  • Collider

  • National Women's History Museum

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।