হংকংয়ের ফ্যাশন জগতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করে, বিশ্বখ্যাত চীনা ক্যুতুরিয়ার গুও পেই সেন্টারেজ ২০২৫-এ তাঁর মনোমুগ্ধকর 'গিল্টারনিটি: অ্যান এভারলাস্টিং রেডিয়েন্স' (Gilternity: An Everlasting Radiance) সংগ্রহটি প্রদর্শন করেছেন। এই বিশেষ অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর ৩০টি হাতে তৈরি অসাধারণ পোশাকের মাধ্যমে স্বর্ণ সুতোর সূক্ষ্ম কারুকার্যকে তুলে ধরেছেন, যা তাঁর নকশার এক অন্যতম বৈশিষ্ট্য। গুও পেইয়ের এই প্রদর্শনী তাঁর দীর্ঘদিনের প্রভাব এবং ফ্যাশন বিশ্বে তাঁর অনন্য অবস্থানকে আরও একবার প্রমাণ করেছে।
প্যারিস অটো Couture ফ্যাশন উইকে তাঁর এক দশকের গৌরবময় যাত্রার পর, তিনি হংকংয়ের তরুণ প্রতিভাদের সঙ্গে কাজ করার এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছেন। হংকং পলিটেকনিক ইউনিভার্সিটি (PolyU)-এর শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা একটি উদ্বোধনী পোশাক এই সহযোগিতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত, যা উদীয়মান নকশাকারদের প্রতি তাঁর অঙ্গীকারকেই তুলে ধরে। এই বছরের শুরুতে হংকংয়ের এম+ (M+) জাদুঘরে অনুষ্ঠিত 'গুও পেই: ফ্যাশন ইমাজিনেশন' (Guo Pei: Fashioning Imagination) প্রদর্শনীটি গুও পেইয়ের সঙ্গে হংকংয়ের দর্শকদের সংযোগকে আরও দৃঢ় করেছে।
তাঁর নকশাগুলি, যা তাদের জটিল কারুকার্য এবং সাংস্কৃতিক মিশ্রণের জন্য বিখ্যাত, বিশ্বজুড়ে অনেক আন্তর্জাতিক সেলিব্রিটির দ্বারা পরিধান করা হয়েছে, যার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলেন রিহানা। ২০১৫ সালে মেট গালায় রিহানার পরা তাঁর আইকনিক 'ইয়েলো এমপ্রেস' (Yellow Empress) গাউনটি গুও পেইকে আন্তর্জাতিক পরিচিতি এনে দিয়েছিল। 'গিল্টারনিটি' সংগ্রহটি মূলত স্বর্ণের উজ্জ্বলতা এবং এর প্রতীকী তাৎপর্যের উপর আলোকপাত করে। গুও পেইয়ের মতে, 'যদি ভালোবাসার একটি রঙ থাকত, তবে তা কী হত? লাল যথেষ্ট নয়… এটি স্বর্ণ হওয়া উচিত।'
এই সংগ্রহে প্রতিটি পোশাকে স্বর্ণের সুতোর ব্যবহার কেবল অলঙ্করণ নয়, বরং এটি যেন গলিত স্বর্ণের প্রবাহের মতো এক জীবন্ত রূপ ধারণ করেছে। এই সূক্ষ্ম কারুকার্য, যা প্রায়শই হাজার হাজার ঘণ্টা সময় নেয় এবং কিছু ক্ষেত্রে দুই বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে, তা চীনা ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, বিশেষ করে রাজকীয় পোশাকের স্বর্ণের সূতোর কাজ (盤金繡 - pan jin xiu) থেকে অনুপ্রাণিত। এই প্রাচীন এবং প্রায়-হারিয়ে যাওয়া কৌশলকে আধুনিকতার ছোঁয়ায় ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা গুও পেইয়ের শিল্পভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সেন্টারেজ ২০২৫-এর এই প্রদর্শনীটি কেবল একটি ফ্যাশন শো ছিল না, বরং এটি ছিল শিল্প, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যের এক মেলবন্ধন। গুও পেইয়ের কাজগুলি দেখায় যে কীভাবে ঐতিহ্যবাহী কারুকার্য এবং আধুনিক নকশা একে অপরের পরিপূরক হতে পারে, যা বিশ্ব মঞ্চে চীনা সংস্কৃতির এক নতুন পরিচয় তৈরি করে। তাঁর এই প্রচেষ্টা কেবল ফ্যাশনকেই নয়, বরং শিল্পকলার প্রতি এক গভীর শ্রদ্ধাও প্রদর্শন করে।




