লন্ডনের রয়্যাল হলোওয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানী ডঃ রিচার্ড হাউল এবং স্নাতকোত্তর ছাত্র জোসেফ আজিজ একটি তাত্ত্বিক গবেষণাপত্র প্রকাশ করেন, যেখানে দাবি করা হয় যে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের ধারণা ছাড়াই ধ্রুপদী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র পদার্থের মধ্যে কোয়ান্টাম জট বা এনট্যাঙ্গলমেন্ট সৃষ্টি করতে পারে। এই গবেষণাটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রধান স্তম্ভ—কোয়ান্টাম বলবিদ্যা এবং আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতা—একীভূত করার ক্ষেত্রে প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এই গবেষণাপত্রটি ২০২২ সালের ২২শে অক্টোবর 'নেচার' (Nature) জার্নালে প্রকাশিত হয়েছিল।
হাউল ও আজিজের এই তত্ত্বটি পদার্থবিজ্ঞানী রিচার্ড ফাইনম্যান কর্তৃক ১৯৫৭ সালে প্রস্তাবিত একটি চিন্তন পরীক্ষার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। ফাইনম্যানের মূল ধারণা ছিল যে সুপারপজিশনে থাকা একটি বস্তুর মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র অন্য বস্তুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করলে তা কোয়ান্টাম মহাকর্ষের অস্তিত্ব প্রমাণ করবে। তবে, আজিজ ও হাউল দেখিয়েছেন যে কোয়ান্টাম মহাকর্ষের উপস্থিতি ছাড়াই কোয়ান্টাম জট সৃষ্টি সম্ভব। তাঁরা কোয়ান্টাম ফিল্ড থিওরি (QFT) ব্যবহার করে দেখান যে ধ্রুপদী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্রগুলি ভার্চুয়াল কণার মাধ্যমে কোয়ান্টাম তথ্য প্রেরণ এবং জট সৃষ্টি করতে পারে, যা কোয়ান্টাম মহাকর্ষ তত্ত্ব দ্বারা পূর্বাভাসিত প্রভাবগুলির থেকে ভিন্নভাবে স্কেল করে।
এই ফলাফলগুলি প্রস্তাব করে যে ধ্রুপদী মহাকর্ষীয় ক্ষেত্র এবং পদার্থের কোয়ান্টাম ক্ষেত্রের মধ্যেকার মিথস্ক্রিয়া 'কোয়াজি-এনট্যাঙ্গলমেন্ট' তৈরি করতে পারে, যা এক দুর্বল ধরনের জট, যার জন্য কোয়ান্টাম মহাকর্ষের প্রয়োজন নেই। ডঃ হাউল স্পষ্ট করেন যে এই আবিষ্কার কোয়ান্টাম মহাকর্ষকে বাতিল করে না, বরং মহাকর্ষ কীভাবে কাজ করে সেই ধারণাকে প্রসারিত করে। তিনি উল্লেখ করেন যে যদি কোনো পর্যবেক্ষণ করা প্রভাব শক্তিশালী হয়, তবে তা সম্ভবত কোয়ান্টাম মহাকর্ষের ইঙ্গিত দেয়, কিন্তু একটি দুর্বল পারস্পরিক সম্পর্ক ধ্রুপদী মহাকর্ষ দ্বারা ব্যাখ্যা করা যেতে পারে।
এই তত্ত্বের পরীক্ষামূলক যাচাইকরণ বর্তমানে পরিবেশগত গোলযোগ (ডিকোহেরেন্স) থেকে উদ্ভূত স্থিতিশীলতার চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। এই গবেষণাটি কোয়ান্টাম মহাকর্ষ পরীক্ষার ধারণাটিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে, কারণ এই ফলাফলগুলি ইঙ্গিত করে যে পর্যবেক্ষণ করা জট কোয়ান্টাম মহাকর্ষের পরিবর্তে কোয়ান্টাম পদার্থ থেকে উদ্ভূত হতে পারে, যা পরীক্ষামূলক ফলাফলকে অস্পষ্ট করে তোলে। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি মহাকর্ষের কোয়ান্টাম প্রকৃতি প্রমাণের জন্য জট সনাক্তকরণের উপর নির্ভরতাকে পুনর্বিবেচনা করতে বাধ্য করছে। ভিয়েনার মার্কাস অ্যাস্পেলমেয়ার এবং ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের সাউগাত বোসের মতো দলগুলির চলমান টেবিলটপ পরীক্ষাগুলির উপর এর তাৎপর্য রয়েছে, যারা মহাকর্ষের কোয়ান্টাম প্রকৃতি পরীক্ষা করার জন্য কাজ করছেন।
তবে, এই বিশ্লেষণটি সম্পূর্ণরূপে তাত্ত্বিক। গবেষণাপত্রে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে বাস্তব-জগতের পরীক্ষাগুলিতে ডিকোহেরেন্স সংক্রান্ত বিশাল প্রযুক্তিগত বাধা রয়েছে। এই কারণে, বৌদ্ধিক অবদান উচ্চ হলেও, পরীক্ষামূলক যাচাইকরণ সম্ভব না হওয়া পর্যন্ত এই আবিষ্কারের তাৎক্ষণিক অভিজ্ঞতামূলক প্রভাব সীমিত।



