আমাজন প্রাইম ভিডিও স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ২০২২ সালের ২১শে নভেম্বর মুক্তি পেয়েছে তথ্যচিত্র ‘এপোক অফ ডিসক্লোজার’ (Era of Disclosure)। পরিচালক ও প্রযোজক ড্যান ফারাখ এই চলচ্চিত্রটিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার কর্তৃক ভিনগ্রহের বুদ্ধি ও প্রযুক্তি সংক্রান্ত তথ্য গোপন রাখার অভিযোগের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। ফারাখের দাবি, তিনি প্রায় তিন বছর ধরে বিভিন্ন উৎসের সঙ্গে কাজ করেছেন এবং তার মতে, সরকারি সংস্থাগুলো ১৯৪৭ সাল থেকে প্রায় আশি বছর ধরে বহির্জাগতিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত তথ্য লুকিয়ে রেখেছে।
এই তথ্যচিত্রটি প্রথমে ২০২৫ সালের মার্চ মাসে এসএক্সএসডব্লিউ (SXSW) উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছিল। এরপর এটি নিউ ইয়র্ক, লস অ্যাঞ্জেলেস এবং ওয়াশিংটন ডি.সি.-এর সিনেমা হলগুলোতে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটির মূল ভিত্তি হলো মার্কিন সরকারের প্রতিরক্ষা, সামরিক এবং গোয়েন্দা বিভাগগুলোর ৩৪ জন বর্তমান ও প্রাক্তন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার সাক্ষ্য। এই সাক্ষ্যদাতারা দাবি করেছেন যে, তাদের কাছে ভিনগ্রহের মহাকাশযান বিধ্বস্ত হওয়া এবং মানুষের নয় এমন দেহের সন্ধান পাওয়ার প্রমাণ রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রাক্তন কর্মকর্তা এবং এটিআইপি (AATIP) কর্মসূচির সদস্য লুইস এলিজোন্ডো এই তথ্যচিত্রের বর্ণনাকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন যে, এমন একটি গোপন কর্মসূচি বিদ্যমান, যা প্রতিরক্ষা সচিব বা এমনকি প্রেসিডেন্টেরও অজানা। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হলো মানুষের নয় এমন প্রযুক্তি বাজেয়াপ্ত করা এবং সেগুলোর রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং করা। জে স্ট্রাটন, যিনি ইউএপি (UAP) টাস্ক ফোর্সের প্রাক্তন পরিচালক ছিলেন, তিনিও এই উদ্বেগগুলো নিশ্চিত করেছেন। তিনি এই প্রযুক্তি আয়ত্ত করার প্রতিযোগিতাটিকে ‘ম্যানহাটন প্রজেক্টের চেয়েও অনেক বেশি শক্তিশালী’ কিছুর সঙ্গে তুলনা করেছেন। তার মতে, যে জাতি প্রথম এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে আনবে, তারা আগামী বহু দশকের জন্য বিশ্ব নেতৃত্বে থাকবে।
পূর্বে ‘রেডি প্লেয়ার ওয়ান’ (Ready Player One) চলচ্চিত্রের প্রযোজক হিসেবে কাজ করা পরিচালক ড্যান ফারাখ চেষ্টা করেছেন যেন তথ্যগুলো যতটা সম্ভব সংবেদনশীলতা এড়িয়ে, বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে উপস্থাপন করা যায়। ফারাখ উল্লেখ করেছেন যে, কিছু সূত্র তাদের খ্যাতি বা নিরাপত্তার ভয়ে চলচ্চিত্রটিতে অংশ নিতে রাজি হননি। পরিচালকের মতে, এই ভয়ই প্রমাণ করে যে আশি বছরের তথ্য গোপনীয়তা বজায় রাখার জন্য হুমকি বিদ্যমান রয়েছে। সাক্ষাৎকারে উঠে আসা বস্তুগুলোর মধ্যে মানুষের নয় এমন দেহও ছিল, যা কিছু সাক্ষ্যদাতার মতে একাধিক প্রজাতির উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়।
‘এপোক অফ ডিসক্লোজার’-এর মুক্তি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন ইউএপি ঘটনাটি জনসমক্ষে এবং রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এর মধ্যে কংগ্রেসের উভয় দলের সদস্যদের নিয়ে শুনানি এবং স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিনেটর চাক শুমার, মাইক রাউন্ডস এবং কিরস্টেন গিলিব্র্যান্ড কর্তৃক ইউএপি ডিসক্লোজার অ্যাক্ট প্রস্তাবনাও অন্তর্ভুক্ত। এই প্রসঙ্গে হ্যারল্ড ই. পাথফ এবং প্রতিরক্ষা বিভাগের গোয়েন্দা বিষয়ক প্রাক্তন সহকারী প্রতিরক্ষা সচিব ক্রিস মেলনের নামও উঠে এসেছে। এলিজোন্ডোর মতোই মেলনও পেন্টাগনে এই বিষয়গুলো উত্থাপন করতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক বাধার সম্মুখীন হয়েছিলেন।
ভেতরের সূত্রগুলোর সাক্ষ্যপ্রমাণে অভ্যন্তরীণ সামঞ্জস্য থাকা সত্ত্বেও, চলচ্চিত্রটি সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। ভ্যারাইটি ম্যাগাজিনের সমালোচক ওয়েন গ্লাইবারম্যান এই সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন যে, প্রদর্শিত প্রমাণগুলো প্রায়শই নিছক দাবির ওপর নির্ভরশীল এবং সর্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য কোনো জোরালো সমর্থন নেই। তবে, পডকাস্টার জো রোগানের মতো সমর্থকরা ভিনগ্রহের জীবনের অস্তিত্বের পক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপনের জন্য ছবিটির প্রশংসা করেছেন। ফলস্বরূপ, ইউএপি সংক্রান্ত চলমান জনমত এবং আইনি আলোচনার পটভূমিতে এই চলচ্চিত্রটি তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
