বেকিং সোডা: ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী উদ্যানপালনে উদ্ভিদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক পরিবেশবান্ধব সমাধান

সম্পাদনা করেছেন: An goldy

২০২৬ সালে এসে বিশ্বজুড়ে বাগানপ্রেমী ও উদ্ভিদবিজ্ঞানীদের মধ্যে বেকিং সোডার ব্যবহার এক নতুন মাত্রা পেয়েছে। উন্মুক্ত জমিতে উদ্ভিদের স্বাস্থ্য রক্ষায় এটি এখন একটি অত্যন্ত কার্যকর এবং সহজলভ্য মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সোডিয়াম বাইকার্বোনেট ($ ext{NaHCO}_3$) নামে পরিচিত এই উপাদানটি তার প্রাকৃতিক ক্ষারীয়, ছত্রাকনাশক এবং অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল বৈশিষ্ট্যের কারণে আধুনিক ও টেকসই বাগান ব্যবস্থাপনার এক অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক।

মাটির অতিরিক্ত অম্লতা বা অ্যাসিডিক ভাব দ্রুত সংশোধন করা বেকিং সোডার অন্যতম প্রধান ব্যবহার। অনেক সময় মাটির উচ্চ অম্লতার কারণে উদ্ভিদের শিকড় প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানগুলো সঠিকভাবে শোষণ করতে পারে না, যা গাছের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। কৃষিবিদ কেসেনিয়া দাভ্যদোভা (Ksenia Davydova) এ বিষয়ে সতর্ক করে জানিয়েছেন যে, নাইট্রোজেন সারের অতিরিক্ত ব্যবহার শসা গাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে, যেখানে ফসফরাস ও পটাশিয়াম সার গাছের প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, সোডার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার মাটিতে সোডিয়ামের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে ফসলের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।

ছত্রাকজনিত রোগ, বিশেষ করে পাউডারি মিলডিউ প্রতিরোধে বেকিং সোডার জলীয় দ্রবণ একটি শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় গাছের পাতায় যখন সাদা পাউডারের মতো আস্তরণ বা পাউডারি মিলডিউ দেখা দেয়, তখন এই দ্রবণটি অত্যন্ত কার্যকর হয়। পাতার টিস্যু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া বা বার্নিং এড়াতে এই দ্রবণটি সাধারণত সন্ধ্যার সময় প্রয়োগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। উদাহরণস্বরূপ, স্কোয়াশ বা এই জাতীয় সবজিতে পাউডারি মিলডিউ দমনে ১০ লিটার পানিতে ৪ টেবিল চামচ সোডা মিশিয়ে একটি দ্রবণ তৈরি করা যায়, যা প্রতি ৭ থেকে ১০ দিন অন্তর গাছে স্প্রে করতে হয়।

ক্ষতিকারক রাসায়নিক কীটনাশকের একটি নিরাপদ ও বিষমুক্ত বিকল্প হিসেবে বেকিং সোডা এফিড (জাব পোকা) এবং স্লাগ বা শামুকের বিরুদ্ধে কার্যকর সুরক্ষা প্রদান করে। বিশেষ করে যখন গাছে ফুল ফোটে, তখন রাসায়নিক স্প্রে করা মৌমাছি বা অন্যান্য উপকারী পতঙ্গের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এমন অবস্থায় ৩ লিটার পানিতে ১৫ গ্রাম সোডা মিশিয়ে এফিড দমনের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়া, বাগানের বেড বা চারাগাছের চারপাশ দিয়ে খাঁটি বেকিং সোডা ছিটিয়ে দিলে তা স্লাগ বা শামুক তাড়াতে একটি প্রাকৃতিক বাধা হিসেবে কাজ করে।

এই বিশেষ কৃষি পদ্ধতিটি মূলত পরিবেশবান্ধব এবং সাশ্রয়ী বাগান ব্যবস্থাপনার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। মাটির অম্লতা নিয়ন্ত্রণের জন্য যদি মাটি খুব বেশি অ্যাসিডিক হয়, তবে ১০০ গ্রাম সোডা ১ লিটার পানিতে গুলে ১০-১৫% ঘনত্বের একটি ক্ষারীয় দ্রবণ তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়। প্রতি ১ বর্গমিটার জমির জন্য এই দ্রবণের ৪-৫ লিটার ব্যবহার করে মাটি আলগা করে দেওয়া উচিত। তবে দ্রবণ তৈরির সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি; যেমন—কখনও ধাতব পাত্র ব্যবহার করা যাবে না এবং দ্রবণ তৈরির পানির তাপমাত্রা কোনোভাবেই ৫৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হওয়া চলবে না।

বীজের অঙ্কুরোদগম ক্ষমতা এবং চারাগাছের জীবনীশক্তি বাড়াতেও বেকিং সোডার ব্যবহার ২০২৬ সালে নতুন করে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বিশেষ করে শসা এবং টমেটোর বীজ সোডার দ্রবণে ভিজিয়ে রাখলে বীজের বহিরাবরণ আর্দ্রতা শোষণের জন্য আরও উপযোগী হয়, যা অঙ্কুরোদগম প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে। এই প্রক্রিয়ায় ২০০ মিলি হালকা গরম পানিতে এক চা চামচ সোডা মিশিয়ে বীজগুলো ১২ থেকে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হয়। অভিজ্ঞ বাগানীদের মতে, এই পদ্ধতিটি শক্তিশালী ও সুসংগত চারা নিশ্চিত করে, যা ২০২৬ সালের সফল ফসলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • El Cronista

  • Susanahernandez

  • Infocampo

  • TN

  • El Cronista

  • Heraldo de Aragón

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।