নতুন আবিষ্কার: Giza-র Menkaure Pyramid-এর ভিতরে লুকায়িত প্রবেশদ্বার!
বিখ্যাত মিশরীয় প্রত্নতত্ত্ববিদ ডঃ জাহি হাওয়াস সম্প্রতি গিজার গ্রেট পিরামিডের অভ্যন্তরে প্রায় ৩০ মিটার দীর্ঘ একটি লুকানো করিডোর সনাক্তকরণের ঘোষণা দিয়েছেন, যা একটি সিল করা দরজায় গিয়ে শেষ হয়েছে। এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি ২০২৬ সালে সর্বসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে আশা করা হচ্ছে। ডঃ হাওয়াস শারজাহ আন্তর্জাতিক বই মেলার ৪৪তম আসরে এই তথ্য জানান।
এই বিশাল শূন্যস্থানটি খুঁজে বের করার জন্য গবেষক দল রাডার, থার্মাল ইমেজিং, থ্রিডি ম্যাপিং এবং মিউওন রেডিয়োগ্রাফির মতো অত্যাধুনিক, অ-আক্রমণাত্মক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছে। এই করিডোরটি প্রাচীনকালে মানুষের প্রবেশগম্য ছিল না এবং রোবোটিক সিস্টেম ব্যবহার করে এর পথ পরিষ্কার করা হয়েছে। ডঃ হাওয়াস ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এই নতুন আবিষ্কারটি প্রাচীন মিশরীয় স্থপতি ও চিকিৎসক ইমহোটেপের সমাধি অনুসন্ধানের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা।
ডঃ হাওয়াস দৃঢ়ভাবে মত প্রকাশ করেছেন যে ইমহোটেপের সমাধি খুঁজে পাওয়া গেলে তা প্রত্নতাত্ত্বিক জগতে এমন এক অর্জন হতে পারে যা তুতানখামেনের সমাধির আবিষ্কারকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে। ইমহোটেপ, যিনি তৃতীয় রাজবংশের সময় দোজেরের স্টেপ পিরামিড নির্মাণের জন্য পরিচিত, তিনিই প্রথম পাথর দিয়ে বিশাল কাঠামো নির্মাণের সূচনা করেন এবং ইতিহাসে প্রথম স্তম্ভ ও ছাদের ব্যবহার করেন বলে মনে করা হয়। প্রত্নতাত্ত্বিকদের কাছে ইমহোটেপের সমাধি খুঁজে বের করা এক 'পবিত্র গ্রেইল'-এর মতো, যদিও অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ মনে করেন এটি সাক্কারার আশেপাশে অবস্থিত।
এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার পাশাপাশি, হাওয়াস ১ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গিজার পিরামিডগুলির সন্নিকটে গ্র্যান্ড মিশরীয় জাদুঘর (GEM) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। এই বিশাল জাদুঘরটি প্রাচীন মিশরীয় সভ্যতাকে উৎসর্গীকৃত এবং এটি বিশ্বের বৃহত্তম জাদুঘর যা একক কোনো সভ্যতার জন্য নিবেদিত। জাদুঘরটিতে এক লক্ষেরও বেশি প্রত্নবস্তু সংরক্ষিত আছে, যার মধ্যে রয়েছে রাজা তুতানখামেনের সমাধির সম্পূর্ণ সংগ্রহ, যা প্রথমবারের মতো একযোগে প্রদর্শিত হচ্ছে। এই সংগ্রহে তুতানখামেনের সমাধির ৫,৩৯৮টি সামগ্রী অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গ্র্যান্ড মিশরীয় জাদুঘরের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে মিশরের পর্যটন শিল্পে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা দেশটির অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রা প্রবাহ বাড়াতে সহায়ক হবে। জাদুঘরটি নির্মাণের কাজ ২০০৫ সালে শুরু হয়েছিল এবং এটি ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে ২০২৩ সালে সম্পন্ন হয়। প্রবেশদ্বারে ফারাও দ্বিতীয় রামসেসের একটি বিশাল, ৩,২০০ বছরের পুরোনো এবং ৩৬ ফুট উঁচু গ্রানাইট মূর্তি রয়েছে, এবং খুফুর ৪,২০০ বছরের পুরোনো সৌর নৌকাটিও স্থান পেয়েছে।
ডঃ হাওয়াস তার বক্তব্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি মিশরীয় পুরাকীর্তিগুলি দেশে ফিরিয়ে আনার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে, গিজার গ্রেট পিরামিড, যা প্রাচীন বিশ্বের সাতটি আশ্চর্যের মধ্যে একমাত্র টিকে থাকা কাঠামো, সেটি প্রায় ৪,৫০০ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল এবং এর অভ্যন্তরে তিনটি পরিচিত কক্ষ রয়েছে। হাওয়াসের নতুন আবিষ্কারটি প্রাচীন মিশরীয় ইতিহাস এবং ফারাওদের অজানা অধ্যায় উন্মোচনে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে প্রত্নতাত্ত্বিক মহল মনে করছে।