Chimborazo আগ্নেয়গিরি তার সব জৌলুসে
ইকুয়েডরের চিমবোর্যাজো আগ্নেয়গিরির চূড়াটি পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক দূরত্বের অধিকারী, যদিও হিমালয়ের মাউন্ট এভারেস্টকে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয়। এই পার্থক্যের মূল কারণ হলো পৃথিবীর আকৃতি, যা একটি নিখুঁত গোলক নয়, বরং ঘূর্ণনের কেন্দ্রাতিগ বলের প্রভাবে বিষুবরেখায় স্ফীত বা উপগোলকীয়। এই স্ফীতির কারণে পৃথিবীর বিষুবীয় ব্যাসার্ধ মেরু ব্যাসার্ধের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি, যেখানে বিষুবীয় ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৭৮ কিলোমিটার এবং মেরু ব্যাসার্ধ প্রায় ৬,৩৫৭ কিলোমিটার।
«Closest to space» স্পেসের সবচেয়ে কাছে নয়।
এই ভৌগোলিক বিন্যাসের সুবিধা নিয়ে চিমবোর্যাজো, যা বিষুবরেখা থেকে মাত্র এক ডিগ্রি দক্ষিণে অবস্থিত, পৃথিবী কেন্দ্র থেকে প্রায় ২.১ কিলোমিটার বেশি দূরত্বে মহাকাশের দিকে প্রসারিত। এর বিপরীতে, মাউন্ট এভারেস্টের সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রচলিত উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার বা ২৯,০৩২ ফুট, যা এটিকে বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বত হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তুলনামূলকভাবে, চিমবোর্যাজোর সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা মাত্র ৬,২৬৩ মিটার বা ২০,৫৪৯ ফুট। এই দুটি পরিমাপের পার্থক্য স্পষ্ট করে যে 'সর্বোচ্চ' পর্বত নির্ধারণ নির্ভর করে পরিমাপের পদ্ধতির ওপর।
ভূ-পদার্থবিদ এবং স্যাটেলাইট পরিমাপসমূহ চিমবোর্যাজোর এই কেন্দ্র থেকে সর্বাধিক দূরত্বের অবস্থানকে নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, মাউনা কেয়া পর্বতকে তার সমুদ্রতলদেশের ভিত্তি থেকে পরিমাপ করলে এভারেস্টের চেয়েও উঁচু বলে বিবেচিত হয়, যার সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা ৪,২০৫ মিটার। এই বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা পর্বতগুলির আপেক্ষিক অবস্থানকে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে শেখায়, যেখানে প্রচলিত উচ্চতার ধারণা ছাপিয়ে পৃথিবীর জ্যামিতিক বিন্যাস প্রাধান্য লাভ করে।
মাউন্ট এভারেস্টের উচ্চতা নিয়েও পরিমাপের ভিন্নতা দেখা গেছে; চীন ও নেপালের যৌথ জরিপে ২০২০ সালে এর উচ্চতা ৮,৮৪৮.৮৬ মিটার হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়, যা আগের পরিমাপের চেয়ে ০.৮৬ মিটার বেশি। এই পর্বতটি হিমালয়ের মহালঙ্গুর হিমাল উপ-পর্বতমালায় অবস্থিত এবং এর চূড়া চীন-নেপাল সীমান্ত নির্দেশ করে। এভারেস্টের স্থানীয় নাম নেপালে 'সাগরমাথা' এবং তিব্বতে 'চোমোলাংমা'।
পর্বতারোহণ অভিযাত্রীদের জন্য, মাউন্ট এভারেস্ট সর্বোচ্চ উচ্চতা অর্জনের আকর্ষণ বহন করলেও, চিমবোর্যাজো গ্রহের কেন্দ্র থেকে সবচেয়ে দূরে পৌঁছানোর এক অনন্য তাৎপর্য বহন করে। এই দুটি পর্বতশৃঙ্গ অভিযাত্রী ও ভূগোলবিদ উভয়ের জন্যই পৃথিবীর চরম বৈচিত্র্য এবং ভূ-গঠনের জটিলতাকে তুলে ধরে।