ভূ-রাজনীতি এবং বড় বিনিয়োগকারীদের ভিন্নমুখী অবস্থানের মাঝে ১.৪০ ডলারের কাছাকাছি থমকে আছে এক্সআরপি (XRP)

সম্পাদনা করেছেন: Yuliya Shumai

১২ মার্চ ২০২৬ তারিখের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রিয় ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সআরপি (XRP) বর্তমানে ১.৩৫ থেকে ১.৪০ মার্কিন ডলারের একটি অত্যন্ত সংকীর্ণ মূল্যসীমার মধ্যে অবস্থান করছে। ফেব্রুয়ারি মাসের শেষের দিকে ইরানকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপের ফলে যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তার প্রভাবে ডিজিটাল সম্পদের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা দেখা দেয়। এই অনিশ্চিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রথাগত সুইফট (SWIFT) ব্যবস্থার বিকল্প হিসেবে এক্সআরপি-র আন্তঃসীমান্ত লেনদেন ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণের দিকে তাকালে দেখা যায় যে, এক্সআরপি বর্তমানে একটি নেতিবাচক বা 'বেয়ারিশ' প্রবণতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এটি বর্তমানে ২.২২ ডলারের ২০০-দিনের এসএমএ (SMA) বা সিম্পল মুভিং অ্যাভারেজের অনেক নিচে লেনদেন হচ্ছে, যা বাজার পুনরুদ্ধারের পথে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত। ক্রিপ্টোকোয়ান্ট (CryptoQuant) বিশ্লেষক আরব চেইন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছেন যে, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে বিন্যান্স (Binance) এক্সচেঞ্জে প্রায় ৪.৮ বিলিয়ন এক্সআরপি জমা হয়েছে, যার মধ্যে মার্চ মাসের শুরুতেই এসেছে আরও ৪৫০ মিলিয়ন টোকেন। সাধারণত এক্সচেঞ্জে এই বিপুল পরিমাণ টোকেন জমা হওয়া বিক্রির চাপের একটি আগাম সংকেত হিসেবে বিবেচিত হয়।

তবে মুদ্রার উল্টো পিঠে বড় বিনিয়োগকারী বা 'তিমি'দের (Whales) মধ্যে সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার একটি ভিন্ন চিত্রও লক্ষ্য করা গেছে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি বিভিন্ন ওয়ালেট থেকে ৪৪ মিলিয়ন এক্সআরপি তুলে নেওয়া হয় এবং ৫-৬ মার্চ তারিখে প্রায় ১৪,০০০টি উত্তোলনের লেনদেন রেকর্ড করা হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এক্সচেঞ্জগুলো থেকে মোট ৭.০৩ বিলিয়ন এক্সআরপি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের পর থেকে সর্বোচ্চ মাসিক উত্তোলন। এই ধরনের বড় অংকের উত্তোলন সাধারণত দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয় বা কোল্ড স্টোরেজে সম্পদ স্থানান্তরের ইঙ্গিত দেয়।

২০২৫ সালের নভেম্বরে চালু হওয়া স্পট এক্সআরপি ইটিএফ (ETF) বর্তমানে এই সম্পদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক জেমস সাইফার্ট উল্লেখ করেছেন যে, এই ফান্ডগুলো চালুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১.৪ বিলিয়ন ডলারের মূলধন সংগ্রহ করেছে। যদিও ৬ মার্চ ২০২৬ তারিখে ইটিএফগুলো থেকে ১৬.৬২ মিলিয়ন ডলারের একটি সাময়িক বহিঃপ্রবাহ দেখা গেছে, তবুও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী চাহিদা এখনও বেশ ইতিবাচক। এই ফান্ডগুলো সরাসরি এক্সচেঞ্জ থেকে টোকেন সরিয়ে কাস্টোডিয়াল স্টোরেজে জমা করার মাধ্যমে বাজারে সরবরাহ কমিয়ে আনছে।

এক্সআরপি লেজার (XRPL) বর্তমানে রিয়েল-ওয়ার্ল্ড অ্যাসেট (RWA) বা বাস্তব সম্পদ টোকেনাইজেশনের ক্ষেত্রে একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। ২০২৬ সালের প্রথম দুই মাসেই এই খাতে রেকর্ড ১.৩ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ এসেছে, যা গত বছরের পুরো সময়কালের বিনিয়োগকে ছাড়িয়ে গেছে। ১১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যমতে, টোকেনাইজড সম্পদের মোট মূল্য ৪৬১ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। বিশেষ করে ৩৪৫ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান আভিভা ইনভেস্টরস (Aviva Investors)-এর সাথে রিপল-এর কৌশলগত অংশীদারিত্ব এই সম্ভাবনাকে আরও জোরালো করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এক্সআরপিএল ভবিষ্যতে ৪০০ ট্রিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বৈশ্বিক সম্পদ ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা রাখে।

বর্তমানে বাজারে এক ধরণের মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিরাজ করছে, যেখানে ৫ মার্চ থেকে ১ মিলিয়ন থেকে ১০০ মিলিয়ন এক্সআরপি ধারণকারী বিনিয়োগকারীরা প্রায় ২িও মিলিয়ন টোকেন নতুন করে ক্রয় করেছেন। তা সত্ত্বেও, সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি কিছুটা দুর্বল থাকায় বর্তমানে এক্সআরপি হোল্ডারদের সম্মিলিত অনাদায়ী লোকসান (unrealized loss) প্রায় ৫০.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। পরিশেষে বলা যায়, এক্সআরপি-র বর্তমান এই স্থিতাবস্থা মূলত প্রাতিষ্ঠানিক সঞ্চয় এবং আরডব্লিউএ (RWA) ভিত্তিক প্রবৃদ্ধির সাথে স্বল্পমেয়াদী বিক্রির চাপ ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার একটি টানাপোড়েন মাত্র।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Bitcoinist.com

  • Bitcoinist.com

  • CryptoQuant Quicktake

  • 24/7 Wall St.

  • MEXC Blog

  • Investing.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।