আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব আরও গভীর করার দৃঢ় সংকল্পের কথা পুনর্ব্যক্ত করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এই লক্ষ্য পূরণে তারা দুবাইতে আন্তর্জাতিক আর্থিক কর্পোরেশন (আইএফসি)-এর প্রতিনিধিদের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছে। এই উচ্চ-পর্যায়ের সংলাপটি দেশের বৃহত্তর অর্থনৈতিক নীতির প্রতিফলন ঘটায়, যেখানে টেকসই অর্থনৈতিক মডেল তৈরি, জ্ঞান সৃষ্টি এবং উদ্ভাবন বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশটি কেবল তেল বা ঐতিহ্যবাহী আয়ের উৎসের উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা থেকে সরে এসে একটি বৈচিত্র্যময় অর্থনৈতিক ভিত্তি স্থাপনে মনোনিবেশ করছে।
অর্থনীতি ও পর্যটন মন্ত্রী মহামান্য আব্দুল্লাহ বিন তুক আল মাররি আইএফসি প্রতিনিধিদলের সাথে পর্যটন খাতে কৌশলগত বিনিয়োগ এবং উন্নয়নের জন্য অর্থায়নের প্রক্রিয়া নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তিনি বিশেষভাবে জোর দেন যে, ইউএই তার পরিকল্পিত প্রকল্পগুলি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের জন্য বৈশ্বিক আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলির সাথে শক্তিশালী সম্পর্ক স্থাপনে সম্পূর্ণরূপে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক প্রমাণ করে যে ইউএই এই ধরনের আন্তর্জাতিক জোটগুলিকে আধুনিক এবং পরিবেশগতভাবে দায়িত্বশীল পর্যটন অবকাঠামো দ্রুত তৈরির একটি শক্তিশালী অনুঘটক হিসেবে দেখছে, যা ভবিষ্যতের অর্থনীতির জন্য অপরিহার্য।
এই কৌশলগত পদক্ষেপগুলি ২০৩১ সাল পর্যন্ত ইউএই-এর সামগ্রিক জাতীয় পর্যটন কৌশলের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই দূরদর্শী কৌশলের প্রধান লক্ষ্য হলো নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে ২৭ বিলিয়ন ডলারের বেশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ করা এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) পর্যটনের অবদান বাড়িয়ে ১২২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা। আলোচনায় ফিনটেক প্রযুক্তির আধুনিকীকরণ, উদ্যোক্তা সহায়তা এবং উদীয়মান অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগের (এসএমই) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সহ অন্যান্য সম্ভাবনাময় দিকগুলিও গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।
উচ্চ সম্ভাবনাময় বাজারগুলিতে, বিশেষ করে ল্যাটিন আমেরিকায়, আমিরাতের বিনিয়োগকে সমর্থন করার জন্য সহযোগিতা জোরদার করার সুযোগগুলিও উভয় পক্ষ মূল্যায়ন করেছে। টেকসই এবং কার্যকর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে বেসরকারি খাতের অপরিহার্য ভূমিকা রয়েছে বলে আইএফসি এবং ইউএই উভয় পক্ষই সর্বসম্মতভাবে স্বীকার করে। এই সহযোগিতা এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইউএই ২০২৪ সালে ৪৫.৬ বিলিয়ন ডলার প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণ করে বিশ্বব্যাপী দশম স্থানে উঠে এসেছে। এটি নিঃসন্দেহে দেশটির অর্থনীতির প্রতি আন্তর্জাতিক আস্থার প্রতীক হিসেবে কাজ করছে। দীর্ঘমেয়াদী উন্নয়নের জন্য একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করার কৌশলের অংশ হিসেবে ‘গোল্ডেন ভিসা’ কর্মসূচির মাধ্যমে দক্ষ কর্মী এবং বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার উপরও বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।




