পরিচালক বেন লিওনবার্গ-এর চলচ্চিত্র “ভালো ছেলে” (Good Boy) ভৌতিক ঘরানার (হরর জনরা) চিরাচরিত ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই গল্পের বর্ণনা সম্পূর্ণভাবে একটি কুকুরের দৃষ্টিকোণ থেকে উপস্থাপিত হয়েছে। এই অপ্রত্যাশিত পদ্ধতি দর্শকদের একটি রক্ষক প্রাণীর প্রখর অনুভূতি এবং সহজাত প্রবৃত্তির মাধ্যমে ঘটনাগুলি অনুভব করার সুযোগ দেয়।
২০২৫ সালের ৩রা অক্টোবর সিনেমা হলগুলিতে এই চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার হয়। মুক্তির পর থেকেই এটি চলচ্চিত্র মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। এসএক্সএসডব্লিউ (SXSW) ২০২৫ ফেস্টিভ্যাল সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্র উৎসবে সমালোচকরা পরিচালকের মৌলিক সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে, প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা কুকুর ইন্ডি (Indy) তার অসাধারণ ভূমিকার জন্য “হাউল অফ ফেম” (Howl of Fame) পুরস্কার অর্জন করে।
লিওনবার্গ এই গল্পের ধারণা পান ১৯৮২ সালের “পোল্টারগাইস্ট” (Poltergeist) চলচ্চিত্রের একটি দৃশ্য থেকে, যেখানে একটি গোল্ডেন রিট্রিভার কুকুর প্রথম ভূতের উপস্থিতি টের পায়। ফিল্মমেকার ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান: “আমি সবসময় লক্ষ্য করতাম যে আমার পোষা কুকুর ইন্ডি কীভাবে শূন্য কোণ বা কোনো কারণ ছাড়াই ঘেউ ঘেউ করে। এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর! প্রতিটি কুকুর মালিকই এই অনুভূতি জানেন।”
লিওনবার্গ সিদ্ধান্ত নেন যে একটি কুকুরই হরর চলচ্চিত্রের জন্য আদর্শ নায়ক হতে পারে। কারণ কুকুর এমন কিছু দেখতে পায় যা মানুষের চোখ এড়িয়ে যায়। উপরন্তু, কুকুরের নিঃশর্ত আনুগত্য গল্পটিকে আবেগপূর্ণ এবং মর্মস্পর্শী করে তোলে। এভাবেই জন্ম নেয় “গুড বয়” — এমন একটি চলচ্চিত্র যা ভয় এবং পোষা প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার মিশ্রণ ঘটায়।
ইন্ডি, যে কিনা একটি নোভা স্কোশিয়া ডাক টোলিং রিট্রিভার, সে কোনো হলিউডের প্রশিক্ষিত অভিনেতা নয়। সে লিওনবার্গ এবং তার স্ত্রী, প্রযোজক কারি ফিশার-এর পারিবারিক পোষা প্রাণী। তাকে চলচ্চিত্রের জন্য প্রস্তুত করতে তিন বছর সময় লেগেছিল। পরিচালক ফিল্মমেকার ম্যাগাজিনে আরও বলেন, “আমরা দিনে মাত্র কয়েকটি শট নিতাম, কারণ ইন্ডি অভিনেতা নয়, সে আমাদের পরিবারের সদস্য।”
গল্পটি ইন্ডি এবং তার মালিক টডকে ঘিরে আবর্তিত হয়, যারা একটি গ্রামীণ বাড়িতে স্থানান্তরিত হয়। সেখানে কুকুরটি অদৃশ্য বিপদ অনুভব করে এবং আসন্ন বিপদ থেকে মানুষটিকে রক্ষা করার চেষ্টা করে। এই চলচ্চিত্রটির আবেগিক মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো ইন্ডি এবং টডের মধ্যেকার গভীর সম্পর্ক। টড অসুস্থ, বাড়িটি রহস্যে ভরা, আর ইন্ডিই একমাত্র যে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করছে।
দ্য হলিউড রিপোর্টার (The Hollywood Reporter) মন্তব্য করেছে: “চলচ্চিত্রটি সফল, কারণ ইন্ডি তার মালিকের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত।” এই বিষয়টি হরর বা কুকুর পছন্দ করেন না এমন দর্শকদেরও আকৃষ্ট করে। আনুগত্য এবং বিশ্বস্ততার এই মোটিফটিই গল্পের মূল ভিত্তি তৈরি করে। যদিও থ্রিলারে প্রাণী চরিত্র ব্যবহার করা নতুন নয়, তবে “ভালো ছেলে”তে কুকুরটি কেবল একটি চরিত্র নয়; সমস্ত ঘটনা তার সংবেদনশীল উপলব্ধির মাধ্যমে দেখানো হয়েছে, যা এই ধারাকে নতুন স্তরে নিয়ে যায়।
পরিচালক লিওনবার্গ এমন একটি প্রাণীর মাধ্যমে বিশ্বের উপলব্ধি তুলে ধরতে চেয়েছেন যার ঘ্রাণ এবং শ্রবণশক্তি মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত। এটি কুকুরটিকে মানুষের কাছে স্পষ্ট হওয়ার অনেক আগেই উদ্বেগজনক সংকেতগুলি ধরতে সাহায্য করে। এটি ভিজ্যুয়াল শকের উপর নির্ভর না করে, বরং নিঃশর্তভাবে প্রেমময় এবং অনুগত পরিবারের সদস্যের কাছ থেকে আসা ক্রমবর্ধমান আশঙ্কার উপর ভিত্তি করে উত্তেজনা সৃষ্টি করে।



