মাইক্রোসফট জিসিসি হাই ক্লাউড নিয়ে বিচার বিভাগে বিতর্ক এবং পরবর্তী উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের রদবদল
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velhush
মার্কিন বিচার বিভাগে (DOJ) মাইক্রোসফট গভর্নমেন্ট কমিউনিটি ক্লাউড (GCC) হাই-এর অন্তর্ভুক্তি এবং এর পরবর্তী সময়ে গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের মাইক্রোসফটে যোগদানের বিষয়টি বর্তমানে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ২০২০ সালের শুরুর দিকে যখন জিসিসি হাই ব্যবহারের প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তখন থেকেই ফেডারেল অডিটররা এর নিরাপত্তা নথিপত্র এবং সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তা সত্ত্বেও, এই ক্লাউড পরিষেবাটি গ্রহণের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়।
২০২৩ সালে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন রাষ্ট্র-পৃষ্ঠপোষকতায় চীনা হ্যাকাররা এই সিস্টেমে অনুপ্রবেশ করে এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ইমেল হ্যাক করে। এই জিসিসি হাই অনুমোদনের প্রক্রিয়াটি মাইক্রোসফটের জন্য বিলিয়ন ডলার আয়ের পথ খুলে দিতে পারত, আর তাই এটি অনুমোদনের জন্য ব্যাপক চাপ প্রয়োগের অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে যে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মাইক্রোসফটের প্রতিনিধি জন বার্গিন এবং তৎকালীন চিফ ইনফরমেশন অফিসার (CIO) মেলিন্ডা রজার্স অডিটরদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। জিএসএ-র (GSA) সাবেক নির্বাহী এরিক মিল উল্লেখ করেছেন যে, রজার্স মাইক্রোসফটের প্রতি অতিরিক্ত সহানুভূতিশীল ছিলেন, যা নৈতিক মানদণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
ফেডারেল অডিটররা বারবার অভিযোগ করেছেন যে, মাইক্রোসফট তাদের নিরাপত্তা পদ্ধতি সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য সরবরাহ করেনি। তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে মূল্যায়ন এবং নেটওয়ার্কের দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিলেন। ২০২৩ সালের হ্যাকিংয়ের পর অডিটররা শংসাপত্র প্রক্রিয়া বন্ধ করার হুমকিও দিয়েছিলেন। ২০২৪ সালের শেষের দিকে ফেডর্যাম্প (FedRAMP) পর্যালোচকরা সিস্টেমটির সামগ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে আস্থার অভাব প্রকাশ করলেও, অনেক সংস্থা ইতিমধ্যে এটি ব্যবহার শুরু করায় শেষ পর্যন্ত জিসিসি হাই অনুমোদন পেয়ে যায়। ফেডর্যাম্প প্রোগ্রামটি মূলত ফেডারেল সংস্থাগুলোর জন্য ক্লাউড পণ্যগুলোর নিরাপত্তা মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করে।
এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত কর্মকর্তাদের পরবর্তী কর্মজীবন নৈতিক প্রশ্নগুলোকে আরও জোরালো করেছে। ২০২৫ সালে সাবেক সিআইও মেলিন্ডা রজার্স মাইক্রোসফটের কর্পোরেট ক্লাউড সলিউশন বিভাগে পার্টনার হিসেবে যোগ দেন। একই বছরের মাঝামাঝি সময়ে সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল লিসা মোনাকো মাইক্রোসফটের গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্স প্রেসিডেন্ট নিযুক্ত হন। যদিও মাইক্রোসফট দাবি করেছে যে তারা সমস্ত নৈতিক নিয়ম মেনে চলেছেন, তবুও ২০২৫ সালে প্রতিরক্ষা বিভাগের (DoD) সিস্টেমে চীনা প্রকৌশলীদের ব্যবহারের খবর প্রকাশিত হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করা হয় এবং সরবরাহকারীদের জন্য DFARs 7012 মানদণ্ড বাধ্যতামূলক করা হয়। এমনকি ২০২৫ সালের শেষের দিকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প লিসা মোনাকোকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছিলেন।
২০২৬ সালের প্রেক্ষাপটে এই বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ কারণ বিচার বিভাগ বর্তমানে সাইবার নিরাপত্তা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে 'ফলস ক্লেইমস অ্যাক্ট' প্রয়োগের মাধ্যমে তারা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চাইছে। এই ঘটনাগুলো সংবেদনশীল সরকারি তথ্য পরিচালনাকারী বড় ক্লাউড সরবরাহকারীদের নিরাপত্তা যাচাই এবং উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সরকারি পদ ছেড়ে সংশ্লিষ্ট বেসরকারি সংস্থায় যোগদানের নৈতিক সংকটকে সামনে নিয়ে এসেছে। ইতিপূর্বে মাইক্রোসফট ডেটা গোপনীয়তা নিয়ে বিচার বিভাগের বিরুদ্ধে মামলা করলেও, শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের শেষের দিকে আস্থার অভাব থাকা সত্ত্বেও জিসিসি হাই-এর অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
4 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Washington Examiner
Federal cyber experts condemned Microsoft's cloud as a 'pile of shit,' but were pressured into approving it. - GIGAZINE
FedRAMP reviewer called Microsoft's federal cloud "a pile of shit" - Boing Boing
Lisa Monaco - Wikipedia
Eric Mill - Wikipedia
A Little-Known Microsoft Program Could Expose the Defense Department to Chinese Hackers - ProPublica
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



